
স্টাফ রিপোর্টার মৌলভীবাজার থেকে:
মৌলভীবাজারে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। গতকাল ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ ইং মৌলভীবাজারে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে এই প্রতিবাদ জানান এডভোকেট আব্দুল লতিফ। প্রেসক্লাবে আয়োজিত ব্রিফিং অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত ১০ ডিসেম্ভর দুপুরে মৌলভীবাজার চৌমোহনা পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজপথের লড়–াকু সৈনিক মিজানুর রহমানকে (২৩) আওয়ামীলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ,যুবলীগ ও পুলিশ এক পেয়ে বর্বরোচিত হামলা করে মারাত্মকভাবে আহত করে। তিনি এখন মুমুর্ষ অবস্থায় মৌলভীবাজার হাসপালের বেডে পড়ে আছেন।
আব্দুল লতিফ জানান, জাতির বিবেক সাংবাদিক, মিজানকে ওরা হামলা করেছে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে। মিজানকে হত্যার উদ্দেশ্যে হকিস্টিক, লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পিঠিয়ে ওরা ক্ষান্ত হয়নি মৃত্যু নিশ্চিতের জন্য বুকে,পেটে ভেতরি আঘাত করেছে মারাত্মকভাবে। মিজানের আর্তচিৎকারে কেউ এগিয়ে আসার সাহস পায়নি আগ্নেয়াস্ত্রের ভয়ে। তার অপরাধ সে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আব্দুল লতিফ জানান, ঘটনার দিন মিজানুর রহমান কুসুমবাগের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে বের হন সকাল ১১টার দিকে। দুপুর অনুমানিক ১২টার দিকে চৌমোহনা পয়েন্টে নিজের মোটর সাইকেল জ্ঞানের আলো লাইব্রেরীর সামনে পার্ক করে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন।
ওই সময় যুবলীগ নেতা ফাহিমের নেতৃত্বে ১০/১২ টি মোটর সাইকেল নিয়ে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মিজানকে ঘিরে ধরে। তাদের সাথে পুলিশের একটি পিকাপ ভ্যানও ছিল। যুবলীগ নেতা আব্দুর রউফ মিজানুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলে তুই এখনো প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছিস,তোকে না বলেছি শহরে বের না হতে। আব্দুর রউফের কথা শেষ না হতেই হেলমেট পরিহিত একজন এসে তার বুক বরাবরে পিস্তল ঠেকিয়ে রাখে। কিছু বুঝে উঠার আগেই মিজানের উপর হকিস্টিক আর লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আক্রমন শুরু হয়। এডভোকেট আবদুল লতিফ বলেন, মৌলভীবাজার শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন নির্মম ঘটনা এই প্রথম। সন্ত্রাসীরা হামলার সময় পিস্তলের মুর্হুমুহু ফায়ার করে গোটা এলাকায় ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে। গুলির আওয়াজে ভয়ে মানুষ দিকবিদিক ছোটাছুটি করে আতংকিত হয়ে পড়ে। প্রায় আধা ঘন্টা আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা নারকীয় তান্ডব চালিয়ে রক্তাক্ত মিজানুর রহমানকে মৃত ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়। হামলাকারীরা ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাবার পর স্থানীয় লোকজন মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট্য হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। অধিক রক্তক্ষরণে মিজানের দেহে রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়। মিজানুর রহমানের চিকিৎসক ডা: হাসান শাহরিয়ার কবির জানান, বেধড়ক হামলায় মিজানুর রহমান তলপেটে ও ঠোঁটে সিরিয়াস আঘাত পেয়েছেন।
ভর্তি করানোর পর জরুরী ভিত্তিতে এক ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে বলেও ডাক্তার জানান। পুলিশের উপস্থিতিতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা কোনো সভ্য দেশে হতে পারে না উল্লেখ করে এডভোকেট আব্দুল লতিফ আরও জানান, ঘটনার পর মিজানুর রহমানের বাবা আব্দুল হান্নান তার ছেলে মিজানুর রহমানের উপর বর্বব হামলার প্রতিকার চাইতে একটি জিডি করতে গিয়েছিলেন মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসির কাছে। পরিচয় পাওয়ার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ গ্রহণ না করে আব্দুল হান্নানকে থানা থেকে তাড়িয়ে দেন। মিজানুর রহমানের বাবা আব্দুল হান্নান জানান, তার ছেলে কোনো অপরাধের সাথে জড়িত নয়, থানায় ও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ কখনও কেউ দেয়নি।
সে কারো সাথে কখনও মারামারি কিংবা কারো কোনো ক্ষতি করে নি। সে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত এটাই তার অপরাধ। তার ছেলে মিজানুর রহমানের কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেংগে পড়েন,তিনি বলেন, আমার সুস্থ, সবল ছেলেকে ওরা নির্মমভাবে পিঠিয়ে নিথর করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই
সম্পাদক : চৌধুরী মিনহাজুল ইসলাম
নিউজ ইনচার্জ : আশরাফ খন্দকার মাছুম
অফিস : বন্দর বাজার, এশিয়া সুপার মার্কেট -৩১০০
ইমেইল : sylhetnewsdaily@gmail.com
Copyright © 2026 সিলেটের খবর প্রতিদিন. All rights reserved.